মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল ফিতরের দিন থেকে ঢাকার দোহার নবাবগঞ্জের বিভিন্ন বিনোদন স্পষ্টে ভীড় দেখা গেছে দর্শনার্থীদের। দোহারের মুকসুদপুর ডাকবাংলো ঘাটে পদ্মাপাড়ে ঘুরতে এসেছে অনেকেই৷ সেখানেও ঈদের দিন ও দ্বিতীয় দিন ভীড় ছিল চোখে পড়ার মত৷
ডাকবাংলো এলাকায় দর্শনার্থীদের গাড়ি পার্কিং এর জায়গাটি বিগত সময়েও উন্মুক্ত ছিল৷ সেখানে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য গাড়ি রেখে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দর্শনার্থীরা ঘুরাফেরা করতেন৷ কিন্তু এবার দেখা গেছে সেখানে ভিন্ন চিত্র। সরকারি বাঁধ নির্মাণের কাজের ব্লক রাখা হয়েছে পদ্মার পাড় দিয়ে৷ কিছু অংশ জায়গা খালি থাকায় সেখানে বাঁশের বেরিকেট দিয়ে গাড়ি রাখার জায়গা করেছে একটি চক্র৷
কোন দর্শনার্থী আসলেই গাড়ি পদ্মাপাড়ে যেতে দেয় না৷ চক্রটির কাছে তাঁরা জিম্মি হয়ে যায়৷ যদিও বিগত সময়ে ঈদ বা কোন উৎসবের দিনে দর্শনার্থীরা ঘুরতে এসে এমনটা হয়নি কেউ৷ নতুন কৌশল অবলম্বন করেই তাঁদের চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে রবিবার ঈদের দ্বিতীয় দিনে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল পার্কিং এর জন্য টোকেন দেওয়া হয়৷ এমনকি অন্যান্য গাড়ির জন্য একই ব্যবস্থা করা হয়েছে। মোটরসাইকেল ৫০ টাকা এবং বড় গাড়ি (চার চাকা) ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ ছিল দর্শনার্থীরা। ঘুরতে এসে তাঁদের কাছে জিম্মি হয়েই টোকেন নিয়ে মোটরসাইকেল রাখতে হয়েছে। যদিও যেখানে গাড়ি রাখা হয়েছে সেগুলো পদ্মাপাড়ের সরকারি জায়গা৷ কিন্তু ঈদকে ঘিরে বাণিজ্যের এক খাত করে নিয়েছে চক্রটি। জোরপূর্বক গাড়ি রাখতেই হবে এমন কর্মকাণ্ডে দর্শনার্থীরা বলছেন প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছেন তারা৷ এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা।
নবাবগঞ্জ থেকে আসা ফাহাদ, তমাল ও রফিকুল নামের তিন যুবক অভিযোগ করে বলেন, বিগত সময়েও এখানে ঘুরতে এসেছি৷ কখনো মোটরসাইকেল রাখতে পদ্মাপাড়ে কাউকে টাকা দিতে হয়নি৷ কিন্তু এবছর জোরপূর্বক রাখতেই হবে, টোকেন দিয়ে ৫০ টাকা করে আমাদের মোটরসাইকেল থেকে নিয়েছেন৷ না রাখতে চাইলে পদ্মারপাড়ে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশ করতে দেয় না৷ আমরা এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
দেহারের বাস্তা থেকে আসা কয়েকজন দর্শনার্থীরা বলেন, চাঁদাবাজির এটি নতুন কৌশল। মোটরসাইকেল দেখে রাখবে বলে টোকেন দিচ্ছে সেই কথা বলেই অভিনব কৌশল অবলম্বন করে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছেন চক্রটি৷ এসব বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈদুল ইসলাম একুশের কণ্ঠের প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানান, ‘ এ বিষয়ে আপনাদের(সাংবাদিক) মাধ্যমে জানতে পেরেছি৷ ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷